ওজন-নিয়ন্ত্রণ

ওজন নিয়ন্ত্রন

ওজন নিয়ন্ত্রন
স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনই করতে পারে ওজন নিয়ন্ত্রণ

আমরা অনেকের মুখে শুনে থাকবো যে, ছয় মাসে ২০ কেজি ওজন কমিয়ে ফেললাম। এ কথাটি শুনলেই আমরা হইচই বাধিয়ে ফেলি। কিন্তু এটা ধ্রুব সত্য কথা। পুস্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যায়াম এবং খাদ্য তালিকা অনুসরণ করলে আপনার ওজনও নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন।

মাঝেমধ্যে হঠাৎ করে ডায়েট শুরু করা, আবার ছেড়ে দেয়া যাবে না। ডায়েট ছেড়ে দিলে আবারও ১০ কেজি ওজন বাড়তে পারে।

প্রথমেই একটা কাগজ আর কলম নিয়ে বসতে হবে এবং তালিকা বানিয়ে ফেলতে হবে যে, আপনি ঠিক কী কী কারণে ডিমোটিভেটেড ( আশা হারানো) হয়ে পড়ছেন এবং কেন আপনার ওজন কমছে না। আমার মনে হয় মূল সমস্যা যেটা ধরতে পারবেন সেটা হচ্ছে, আপনার খাদ্য তালিকায় যে ধরনের খাবার আছে সেটা বানিয়ে খাওয়াটা আপনার জন্য কষ্টকর বলেই আপনার পক্ষে খাদ্যাভ্যাস মেনে চলা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ আপনি অনেক ব্যস্ত জীবন কাটান।

কাজেই আপনি ডায়েটিশিয়ানের (পুস্টিবিদ) কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে নিজের ব্যস্ত জীবন, নিজের শরীর আর জীবনযাপন পদ্ধতি অনুযায়ী সহজ একটি খাদ্য তালিকা বানিয়ে ফেলুন। সেই সঙ্গে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন পদ্ধতি মেনে চলার জন্য নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করুন।

প্রথমেই আপনার বিএমআর (বয়স, উচ্চতা, শারীরিক গড়ন অনুযায়ী প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় খাদ্যশক্তি) বের করে আপনার দৈনন্দিন কতোটুকু ক্যালরি প্রয়োজন সেটা ঠিক করুন। পরে হেলদি এবং আনহেলদি খাবারের একটা তালিকা বানান। প্রতিজ্ঞা করুন, অস্বাস্থ্যকর খাবার খাবেন না। প্রথমেই দীর্ঘ সময়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ না করে ছোটো ছোটো লক্ষ্য নির্ধারণ করুন।

অর্থাৎ, প্রথম সপ্তাহে আপনি কার্বের (শর্করা জাতীয় খাবার) তালিকা থেকে ভাতের পরিমাণ অর্ধেক করুন, পরের সপ্তাহে কমান চিনি খাওয়া। এর পরের সপ্তাহ থেকে রেডমিট (গরু, খাসি, ভেড়া, শুকর ইত্যাদির মাংস) ছাড়ুন। পরের সপ্তাহ থেকে বাড়ান ফল, সবজি ইত্যাদি খাওয়ার পরিমাণ। এরপর দুধ চা খাওয়া কমিয়ে দিন। পরের সপ্তাহে একেবারে ছেড়েই দিন।

এভাবে একটু একটু করে স্বাস্থ্যকর খাবারের পরিমাণ বাড়াতে থাকুন, আর অস্বাস্থ্যকর খাবারের পরিমাণ কমাতে কমাতে একেবারেই বন্ধ করে দিন। আপনি এখন নিয়মিত, ওটস্, রুটি, ফলমূল, সবজি, সালাদ, বাদাম, পনির, মাছ, মাংস আর ডিম খান। সবই পরিমিত পরিমানে এবং ১২০০ ক্যালরি হিসাব করা (কোন খাবারে কতটুকু ক্যালরি তা ইন্টারনেটেই পাবেন)। সপ্তাহে একদিন ভাত খান। ভাজাভুজি, জাংক ফুড হঠাৎ হঠাৎ (মাসে এক বা দু’দিন) খান এবং চিনি একেবারেই খাবেন না। ছয় মাসে চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার খেতে পারেন মাত্র চার বা পাঁচ দিন।

পাশাপাশি আপনি নিয়মিত ব্যায়াম করুন। দিনে অন্তত ৪০ মিনিট সাইকেল চালান (মহিলারা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন) এবং ৩০ মিনিট পাওয়ার ওয়াক করুন। নিতান্ত অসুস্থ না হলে এই রুটিন এর কোনো ব্যতিক্রম করবেন না। সন্ধ্যা ৭ টার পর আপনি কোনো খাবার খাবেন না এবং রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ার চেষ্টা করুন।

আরেকটা কাজ আপনি করবেন তা হল, দুইদিন পর পর ওজন নিবেন না। এমনকি আপনার ওজন কতো কমলো এটা নিয়ে মাথা ঘামাবেন না। কারণ,  ওজন কতোটুকু কমলো সেটা আপনি আপনার জামা কাপড়ের সাইজ এবং মানুষের মুখের কথা শুনেই বুঝতে পারবেন।

এই উপায়গুলি অনুসরন করে যদি কেউ বিন্দুমাত্রও উপকৃত হয়ে থাকেন, তবে নিজেকে ধন্য মনে করবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *