বাংলা ব্যাকরণের বিভিন্ন বিষয়

বিশেষভাবে বিশ্লেষণ হল বাংলা ভাষায় ব্যাকরণ (বি+আ+কৃ+অন) শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ । যে শাস্ত্রে কোন ভাষার বিভিন্ন উপাদানের প্রকৃতি ও স্বরুপের বিচার বিশ্লেষণ করা হয় এবং বিভিন্ন উপাদানের সম্পর্ক নির্ণয় ও প্রয়োগবিধি সম্পর্কে বিষদভাবে আলোচিত হয়, তাকে ব্যাকরণ বলা হয়। ব্যাকরণের মূল ভিত্তি হল ভাষা। ভাষা ছাড়া ব্যাকরণ কল্পনা করা যায় না।

পর্তুগিজ পাদরি মানুয়েল দ্য আসসুম্পসাও সর্বপ্রথম বাঙলা ব্যাকরণ লিখেছেন। তবে ইংরেজ পন্ডিত ন্যাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড রচিত “A Grammar of the Bengali Language” সর্বপ্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ। বাঙালিদের মধ্যে সর্বপ্রথম রাজা রামমোহন রায় ইংরেজিতে বাংলা ব্যাকরণ লিখেছেন। তাঁর রচিত ব্যাকরণের নাম গৌড়ীয় ব্যাকরণ।

যে কোন ব্যাকরণের প্রধান আলোচ্য বিষয় চারটি। যেমন-
১. ধ্বনি তত্ত্ব (Phonology),
২. শব্দতত্ত্ব বা রুপতত্ত্ব (Morphology)
৩. বাক্যতত্ত্ব বা পদক্রম (Syntax)
৪. অর্থতত্ত্ব (Semantics)|

এ ছাড়াও ছন্দ ও অলংকার, অভিধানতত্ত্ব , প্রভৃতিও ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়।

(১) ধ্বনিতত্ত্বঃ(Phonology) ধ্বনিতত্ত্বে থাকে ধ্বনির বিভিন্ন দিক; যেমন- উচ্চারণ স্থান, ধ্বনির উচ্চারণ প্রনালী, ধ্বনির প্রতীক বা বর্ণের বিন্যাস, ধ্বনি সংযোগ বা সন্ধি, ধ্বনির পরিবর্তন ও লোপ, ণত্ব ও ষত্ব বিধান ইত্যাদি।

(২) শব্দতত্ত্ব বা রুপতত্ত্বঃ শব্দতত্ত্ব বা রুপতত্ত্বে থাকে শব্দের উৎপত্তি, শব্দমূল, শব্দের গঠন, বচন ও লিঙ্গ এবং ক্রিয়ামূল বা ধাতুরুপ, ক্রিয়ার কাল, পুরুষ, কারক, সমাস ইত্যাদি।

(৩) বাক্যতত্ত্ব বা পদক্রমঃ বাক্যতত্ত্ব বা পদক্রমে থাকে বাক্যের বিভিন্ন দিক; যেমন- বাক্যের সঠিক গঠন প্রণালী, বিভিন্ন উপাদানের সংযোজন, বিয়োজন, এদের সার্থক ব্যবহারযোগ্যতা, বাক্যে শব্দ বা পদের স্থান বা ক্রম, পদের রুপ পরিবর্তন ইত্যাদি।

(৪) অর্থতত্ত্বঃ অর্থতত্ত্বে থাকে শব্দের অর্থবিচার, অর্থের বিভিন্ন প্রকারভেদ ও বাক্যের অর্থবিচার। উদাহরণ হিসাবে বলা যায়- গৌনার্থ, মুখ্যার্থ, বিপরীতার্থক ইত্যাদি।

ব্যাকরণে শব্দের ক্ষুদ্রতম একক ধ্বনি বা বর্ণ এবং বাক্যের ক্ষুদ্রতম একক শব্দ।

প্রাতিপাদিকঃ বিভক্তিহীন নাম শব্দকে প্রাতিপাদিক বলা হয়। যেমন- বই, কলম, হাত, মা, জল, ফল ইত্যাদি।

বাংলা ব্যাকরণের বিভিন্ন বিষয় জানতে নিচের লিংক গুলো অনুসরন করুন। 
০১। বাংলা ব্যাকরণ-১